অ্যাসিড ও ক্ষার বিস্তারিত আলোচনা ও প্রশ্ন ও উত্তর

অ্যাসিড ও ক্ষার – প্রশ্ন ও উত্তর অ্যাসিড ও ক্ষার চ্যাপ্টার থেকে দেওয়া রইলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর । 1. পিঁপড়ের হুলে কোন অ্যাসিড থাকে? – টারটারিক অ্যাসিড – আয়োডিক অ্যাসিড – অ্যাসিটিক অ্যাসিড – ফরমিক অ্যাসিড 2. নিন্মের কোন অ্যাসিড এ অক্সিজেন আছে? – হাইড্রাসিডে – জৈব অ্যাসিডে – অক্সিঅ্যাসিডে – অজৈব অ্যাসিডে … অ্যাসিড ও ক্ষার – প্রশ্ন ও উত্তর Read More »

অ্যাসিড ও ক্ষার বিস্তারিত আলোচনা ও প্রশ্ন ও উত্তর
অ্যাসিড ও ক্ষার বিস্তারিত আলোচনা ও প্রশ্ন ও উত্তর

অ্যাসিড ও ক্ষার – প্রশ্ন ও উত্তর 

অ্যাসিড (Acids) : যে যৌগের স্বাদ অম্ল এবং যার মধ্যে ধাতু বা ধাতুধর্মী মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপনযোগ্য এক বা একাধিক হাইড্রোজেন পরমাণু বর্তমান এবং যে যৌগ ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ এবং জল উৎপন্ন করে তাকে অ্যাসিড বলে । নীল লিটমাস পেপার অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসলে লাল হয়ে যায় । যেমন -- সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCL) ইত্যাদি ।

ক্ষারক (Bases) : যেসব যৌগ অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও জল উৎপন্ন করে তাদের ক্ষারক বলে । ধাতু বা ধাতুধর্মী মূলকের অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড কে সাধারণত ক্ষারক বলে । যেমন -- সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড (Ca(OH)2), অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড (NH4OH) ইত্যাদি ।

লবণ (Salts) : অ্যাসিডের প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু, ধাতু বা অপর কোন ধাতুধর্মী মূলক দ্বারা আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে যে যৌগ উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে । যেমন -- ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MgSO4), সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), জিংক সালফেট (ZnSO4), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) ইত্যাদি । 

◾ অ্যাসিডের ধর্ম (Properties of Acid):

অ্যাসিডের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জলীয় দ্রবণে H+ আয়ন উৎপন্ন করা। দ্রবণে অ্যাসিডের ধর্ম H+ আয়নের উপস্থিতির জন্য প্রকাশ পায় ।

1. অ্যাসিড নির্দেশকের (Indicators) বর্ন পরিবর্তন করে । অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণ নীল লিটমাসকে লাল করে এবং মিথাইল অরেঞ্জ এর রং কমলা থেকে লাল বর্ণে পরিণত করে । এর দ্বারা অ্যাসিডকে সনাক্ত করা হয় ।

2. সব অ্যাসিড কমবেশি অম্ল স্বাদ যুক্ত । লেবু, আমলকি, তেতুল, টক দই প্রভৃতিতে অ্যাসিড আছে । সেই জন্য এদের স্বাদ অম্ল যুক্ত ।

3. হাইড্রোজেন এর চেয়ে বেশি তড়িৎ ধনাত্মক ধাতু যেমন Mg, Zn, Fe, Al প্রভৃতির সঙ্গে এসিডের বিক্রিয়ায় অ্যাসিডের প্রতিস্থাপনযোগ্য হাইড্রোজেন পরমাণু ধাতু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ গঠন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত হয় ।

Mg + H2SO4 = MgSO4 + H2

Zn + H2SO4 = ZnSO4 + H2

Mg + 2HCl = MgCl2 + H2

4. অ্যাসিড কার্বনেট অথবা বাই কার্বনেট লবণ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত করে । এই বিক্রিয়া দ্বারা অ্যাসিডকে সনাক্ত করা যায় ।

Na2CO3 + H2SO4 = Na2SO4 + CO2 + H2O

NaHCO3 + HCl = NaCl + CO2 + H2O

5. ক্ষার বা ক্ষারকের সঙ্গে অর্থাৎ ধাতব অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড এর সঙ্গে এসিডের বিক্রিয়ায় লবণ এবং জল উৎপন্ন হয়।

HCL + NaOH = NaCl + H2O

H2SO4 + Ca(OH)2 = CaSO4 + 2H2O

MgO + H2SO4=MgSO4 + H2O

6. আয়নীয় বিয়োজনের ফলে এসিডের জলীয় দ্রবণে ক্যাটায়নরূপে কেবলমাত্র H+ আয়ন বর্তমান থাকে।

HCL ⇌ H+ + Cl- 

H2SO4 = 2H+ + SO4-- 

◾ক্ষারকের ধর্ম (Properties of Base)

 ক্ষারকের গুলি হল---

1. ক্ষারকের জলীয় দ্রবণ নির্দেশকের (Indicators) বর্ণ পরিবর্তন করে । যেমন ক্ষারকের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে । ফেনলপথ্যালিনের বর্ণ গোলাপি করে এবং মিথাইল অরেঞ্জ এর বর্ণ হলুদ করে । এর মাধ্যমে ক্ষারককে শনাক্ত করা যায় ।

2. ক্ষারকের সঙ্গে অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় লবণ এবং জল উৎপন্ন হয় । যেমন ক্ষারক MgO এর সঙ্গে H2SO4 অ্যাসিডের এর বিক্রিয়ায় MgSO4 লবণ এবং জল উৎপন্ন হয় । ক্ষারক NaOH এর সঙ্গে HCl অ্যাসিডের এর বিক্রিয়ায় NaCl লবণ এবং জল উৎপন্ন হয় ।

MgO + H2SO4 = MgSO4 + H2O

NaOH + HCl = NaCl + H2O

3.জলে দ্রাব্য গুলি জলীয় দ্রবণে তড়িৎ বিয়োজিত হয়ে OH- আয়ন উৎপন্ন করে । যেমন জলীয় দ্রবণে NaOH বিয়োজিত হয়ে অ্যানায়নরূপে OH- আয়ন উৎপন্ন করে ।

NaOH = Na+ + OH-

4. ক্ষারকের OH- আয়ন সর্বদাই অ্যাসিডের H+ আয়নের সঙ্গে বিক্রিয়া করে জলের অনু গঠন করে । যেমন H+ + OH- = H2O এই কারণে ক্ষারককে H+ আয়ন বা প্রোটন গ্রাহক বলা হয় ।

ক্ষার (Alkali)

জলে দ্রবণীয় ক্ষারকীয় ধর্ম বিশিষ্ট ধাতব হাইড্রক্সাইডকে ক্ষার (Alkali) বলে । যেমন - ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড (Ca(OH)2, পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH), সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড (NH4OH) ইত্যাদি।

◾ক্ষারের ধর্ম (Properties of Alkali)

ক্ষারের গুলি হল---

1. ক্ষারের জলীয় দ্রবণ স্পর্শ করলে সাবানের মতো পিচ্ছিল মনে হয় ।

2. ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে । ক্ষারীয় দ্রবণে ফেনলপথ্যালিনের এর বর্ণ গোলাপি এবং মিথাইল অরেঞ্জ এর বর্ণ হলুদ হয় । এর মাধ্যমে ক্ষারককে শনাক্ত করা যায় ।

3. ক্ষার এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ এবং জল উৎপন্ন করে।

4. জলীয় দ্রবণে ক্ষার আয়নিত হয় এবং হাইড্রোক্সিল আয়ন OH- উৎপন্ন করে।

5. ক্ষার ধাতব লবণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধাতব হাইড্রক্সাইড উৎপন্ন করে ।

MgSO4 + 2NaOH =Mg(OH)2 + Na2SO4

CuCl2 +2NaOH = Cu(OH)2 + 2NaCl

ক্ষারক বা ক্ষারের অম্লগ্রাহীতা (Acidity of Base)

কোন ক্ষারক বা ক্ষারের প্রতিটি অণুর মধ্যে যত সংখ্যক OH মূলক বর্তমান থাকে সেই সংখ্যাকে ওই ক্ষারক বা ক্ষারের অম্লগ্রাহীতা বলে । যেমন -

NaOH এর অম্লগ্রাহীতা =1, কারণ NaOH এর একটি অনুর মধ্যে একটি OH মূলক বর্তমান আছে বলে । Ca(OH) এর অম্লগ্রাহীতা =2, কারণ Ca(OH)2 এর একটি অনুর মধ্যে দুইটি OH মূলক আছে ।

যেসব ক্ষারকে OH মূলক থাকে না তাদের ক্ষেত্রে ক্ষারকের একটি অণু এক ক্ষারীর অ্যাসিডের যত সংখ্যক অণুর সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে বিক্রিয়া করে লবণ ও জল উৎপন্ন করে সেই সংখ্যাকে ওই ক্ষারকের অম্লগ্রাহীতা বলে । যেমন -

CaO + 2HCl = CaCl2 + H2O

MgO +2HCl = MgCl2 + H2O

সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয় কেন ?

সাধারণত ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যৌগ গুলি অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও জল উৎপন্ন করে, এদের ক্ষারক বলে । কিন্তু যে সমস্ত ক্ষারক জলে দ্রাব্য কেবল তাদেরকেই ক্ষার বলে । জিংক হাইড্রক্সাইড Zn(OH)2 , ফেরিক হাইড্রক্সাইড (Fe(OH)3 , অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড (Al(OH)3 , জিংক অক্সাইড (ZnO) জলে দ্রবীভূত হয় না তাই এগুলো ক্ষারক হলেও ক্ষার নয় আবার ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Ca(OH)2 , সোডিয়াম অক্সাইড NaOH , ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) প্রভৃতি জলে দ্রাব্য । তাই এদের ক্ষারক বা ক্ষার উভয়ই বলা হয় । সুতরাং সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয় ।

তীব্র ক্ষারক বা ক্ষার এবং মৃদু ক্ষারক বা ক্ষার কি ?

যে ক্ষারক জলীয় দ্রবণে তড়িৎ বিয়োজিনের ফলে বেশি পরিমাণ OH- আয়ন উৎপন্ন করে তাকে তীব্র ক্ষারক বা ক্ষার বলে । NaOH, KOH ইত্যাদি ।

যে ক্ষারক জলীয় দ্রবণে তড়িৎ বিয়োজিনের ফলে কম পরিমাণ OH- আয়ন উৎপন্ন করে তাকে মৃদু ক্ষারক বা ক্ষার বলে ।

[✓অ্যাসিড ও ক্ষার চ্যাপ্টার থেকে দেওয়া রইলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ।]

1. পিঁপড়ের হুলে কোন অ্যাসিড থাকে?
– টারটারিক অ্যাসিড
– আয়োডিক অ্যাসিড
– অ্যাসিটিক অ্যাসিড
– ফরমিক অ্যাসিড

2. নিন্মের কোন অ্যাসিড এ অক্সিজেন আছে?
– হাইড্রাসিডে
– জৈব অ্যাসিডে
– অক্সিঅ্যাসিডে
– অজৈব অ্যাসিডে

3. রেড লিটমাসকে লাল রং থেকে নীল রং করে দেয় কে?
– Base
– Mineral Acid
– Sodium
– Alkali

4. নিচের কোনটি জটিল লবণ (Complex Salt) এর উদাহরণ?
– PbSO4
– [Ca(NH3)4]SO4
– (Al2)3SO4
– [Na(KOH3)2SO4

5. Mohr’s Salt- কাকে বলা হয়?
– Feso4, (NH4)2SO4 কে
– Bleaching Powder কে
– HCl কে
– H2SO4 কে

6. (NH4)2 SO4 এর Positive আয়ন কোনটি?
NH4+
– NH2
– NH4
– SO4+

7. লবণকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
– 7 ভাগে
– 4 ভাগে
6 ভাগে
– 5 ভাগে

8. অ্যাসিড এবং বেসের (Base) বিক্রিয়া ঘটলে নিচের কোনটি উৎপন্ন হয়?
– পটাসিয়াম সালফাইড
– ম্যাগনেসিয়াম
– লবন এবং জল
– সোডিয়াম বাই কার্বনেট

9. Bleaching Powder এর সংকেত কি?
– PSO4
– CaOCl2
– Ca(OH)2
– NaCl

10. H3PO4 এর ক্ষারক গ্রাহীতা কত?
– 1
– 2
– 4
– 3

11. HCL (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) এর ক্ষারক গ্রাহীতা (Basicity of Acid) কত?
– 2
– 3
– 4
– 1

12. নিন্মের কোনটি Normal Salt এর উদাহরণ?
– Al2SO4
– PSO4
– NaCl2
– Na2so4

13. খাদ্য লবণের সংকেত নিন্মের কোনটি?
– NaOH
– NaCO3
– NaCl
– K2SO4

14. উৎস অনুযায়ী Acid কে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
– 3 ভাগে
– 6 ভাগে
– 2 ভাগে
– 4 ভাগে

15. নিন্মের কোনটি Organic Acid (জৈব অ্যাসিড)?
– HCOOH
– CH3COOH
– উপরের দুটিই
– শুধুমাত্র A